বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:১৪ অপরাহ্ন
রমজানের আগে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়ানো দেশের ব্যবসায়ীদের ‘ঐতিহ্যগত অভ্যাস’। গত বছরও রোজা শুরুর আগে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে ভোজ্য তেলের মূল্য সমন্বয় করে সরকার। এবারও একই ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত নভেম্বরেই বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল। এরপর ৯ ডিসেম্বর সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৮ টাকা। তাতে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ১৮৫, খোলা পাম তেল প্রতি কেজি ১৭৫, বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিন ৮৪০ থেকে ৮৫০, ১ লিটার সয়াবিন ১৭৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এখন রোজার আগে আরেক দফা বাড়তে পারে পণ্যটির দাম।
সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের লাল ডিমের দাম কিছুটা কমলেও অন্যান্য পণ্যের দামের তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ৫ টাকা কমে বড় বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে প্রতি ডজন ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাড্ডা ও মগবাজার এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।
মগবাজারের ডিম ব্যবসায়ী খলিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, গেল এক মাস থেকেই ডিমের বাজারে আগের অস্থিরতা নেই। ক্রমেই দাম কমছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ৩ টাকা কমে প্রতি ডজন মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ ও সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকায়।
এদিকে অপরিবর্তিত দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। বাজারে পাঁচ কেজি ওজনের রুই ৫০০ টাকা কেজি, ছোট রুই ২৫০, পাবদা আকারভেদে ৪০০ থেকে ৪৫০, চাষের শিং ৪৫০ থেকে ৭০০, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০, কৈ আকারভেদে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০, এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ ও জাটকা ইলিশ ৫০০ টাকা কেজি, আকারভেদে প্রতি কেজি কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০, কোরাল ৭০০ থেকে ৭৫০, ট্যাংরা ৫৫০ থেকে ৭০০, চিতল ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাড্ডা কাঁচা বাজারের মাছ বিক্রেতা আতাউর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মৌসুমের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য মাস দুয়েক আগেই মাছের দাম বেড়েছে। তবে গেল দুই সপ্তাহ ধরে মাছের দামের কোনো পরিবর্তন নেই। বেশি দামে কিনলে বেশিতেই বিক্রি করি আর কম দামে কিনলে কমেই বিক্রি করি।’
এদিকে দেশের মানুষের খাদ্যের প্রধান অনুষঙ্গ চালের শুল্ক ছাড়েও দাম কমেনি। ভারত থেকে গত দুই মাসে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ৯ হাজার ৬৮২ টন চাল আমদানি হয়েছে। কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।
এর আগে গত বছর দুই দফায় আমদানি করা চাল থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শুরুতে চালের দাম কমাতে ৬২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করেছিল আমদানি শুল্ক। এতে ফল আশানুরূপ না পেয়ে গত বছর (১ নভেম্বর) চালের ওপর থাকা সব আমদানি ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয় এনবিআর। এ সিদ্ধান্তের ফলে চালের দাম প্রতি কেজিতে অন্তত ৯.৬০ টাকা কমবে বলে আশা করা হলেও উল্টো বেড়েছে দাম।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬০ টাকার নিচে কোনো চাল বাজারে নেই। খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি পাইজাম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ভালো মানের মিনিকেট ৮৪-৮৫, আটাশ প্রতি কেজি ৬৫, নাজিরশাল ৮০-৮৫, বাসমতী ৯৫ থেকে ১০০, চিনিগুঁড়া ১৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে শীতকালীন সবজির শেষ সময় হলেও রাজধানীর বাজারে পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ রয়েছে। মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৪০-৫০, বাঁধা ও ফুলকপি ৩০, শিম ৩০ থেকে ৪০, কাঁচা মরিচ ৭০ থেকে ৯০, শসা ৪০-৫০ ও প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। এ ছাড়া কলার হালি ৩০, শালগম ৪০, গাজর ৫০, প্রতি কেজি পেঁপে ২৫-৩০, ঝিঙা-ধুন্দল ৭০, টমেটো ৪০-৫০, পালং ও লালশাক, পেঁয়াজের কলি প্রতি আঁটি ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।